একজন মানুষ। একজন বিপ্লবী। মানুষের মুক্তির জন্য যিনি তিন যুগেরও অধিক সময় জেল খেটেছেন। কোনো লোভ-লালসা তাঁকে কাবু করতে পারেনি। অথচ জীবনে অনেক সুযোগ এসেছিল—কিন্তু তিনি তা গ্রহণ করেননি। কেননা এককভাবে সুখে থাকা, অভাব-অনটনমুক্ত জীবন ধারণ তাঁর ভাবনায় ছিল না। তিনি চেয়েছিলেন সামগ্রিকভাবে ভারতবাসী ও বাঙালির মুক্তি। তিনি বিশ্বাস করতেন—‘প্রকৃত বিপ্লবীরা কোনো সম্প্রদায়ে বিশ্বাস করে না, একমাত্র মানব সম্প্রদায় ছাড়া। ভারতে হিন্দু সম্প্রদায়ভুক্ত বিপ্লবীরা কেবলমাত্র হিন্দুদের স্বাধীনতার জন্যই জীবন উৎসর্গ করেনি তাঁরা ভারতের মুক্তি কামনায় জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। কোনো বিশেষ সম্প্রদায়ের জন্য তাঁরা গৃহত্যাগ করেননি।’ প্রিয় মাতৃভূমি প্রসঙ্গে তিনি বলেছিলেন—‘দেশত্যাগ বিপ্লবীর ধর্ম নয়। সর্বভারতের মুক্তিকামী হয়েও আমি নদ-নদী ঘেরা পূর্ব বাংলা মানুষ। পূর্ববাংলা আমার মাতৃভূমি।’ এমনভাবে কে আর বলতে পারে? এমনতর দৃঢ়তা, সাহস আর আত্মবিশ্বাস যাঁর ছিল তিনিই বাংলার মহারাজ—ত্রৈলোক্যনাথ চক্রবর্তী।