রাষ্ট্র আদতে রাজনৈতিক ক্ষমতার ন্যায্য বণ্টনের একটি কাঠামো, আর লিখিত সংবিধানের মূল উদ্দেশ্যও সেই ক্ষমতার ভাগবাঁটোয়ারা, সীমা ও সংযমকে স্থায়ী অথচ দরকারে বিনির্মাণযোগ্য রূপ দেওয়া। কিন্তু বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নের শুরু থেকেই এই সুষম বণ্টনের প্রশ্নটি প্রায় উপেক্ষিত থেকেছে। ফলে রাষ্ট্রকাঠামো এমনভাবে গড়ে উঠেছে, যা দীর্ঘমেয়াদে জনগণের মিলিত সহাবস্থান ও আত্মমর্যাদাবান বিকাশের উপযোগী হয়নি। গত ৫৪ বছরের রাজনৈতিক যাত্রাপথে ফিরে তাকালে দেখা যায়, দেশের মূল সংকট অর্থনৈতিক বা সামাজিক নয়; সেসব ক্ষেত্রে অগ্রগতির দালিলিক প্রমাণ আছে। বস্তুত সমাজ, সংস্কৃতি বা অর্থনীতি নদীর মতোই জ্যান্ত বিষয়। একদিকে বাঁধ দিলে অন্য কোনোদিকে এগুলো প্রবাহিত হবে। কিন্তু রাষ্ট্র, সংবিধান, গণতন্ত্র ইত্যাদি অর্গ্যানিক নয়, কৃত্রিম। তাই এগুলো নির্মাণ ও নিরন্তর লালনপালন করে যেতে হয়। আমাদের যূথবদ্ধ জীবনে চলছিল না গণতন্ত্র, রাজনীতি, শাসনতন্ত্র। অসুখটি সাংবিধানিক। গোড়াতে রাজনীতিই সংবিধান রচনা করে সত্য, কিন্তু গঠনপর্ব শেষে সংবিধানকে ঘিরেই বিনির্মিত হতে থাকে রাজনীতি, রাষ্ট্রকাঠামো। ১৯৭৫ (জানুয়ারি), ১৯৭৫-১৯৭৯, ১৯৯১ ও ২০১১-এ ৪-দফা সাংবিধানিক পুনর্গঠনের অসফলতার প্রেক্ষিতে ২০২৪-এর জুলাই বিপ্লবের পর পঞ্চম পুনর্গঠনের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে তাই আমাদের রাষ্ট্রদর্শনই পুনর্দর্শন করা জরুরি প্রতীয়মান হয়। গ্রন্থটিকে তারই একটি নিরীক্ষা প্রতিবেদন হিসেবে পাঠ করা যেতে পারে।