রবীন্দ্রনাথের প্রতিটি গান রচনার পেছনেই লুকিয়ে আছে কোনো না কোনো কারণ বা ঘটনা। কিন্তু সেসব সৃষ্টিরহস্য জানা দুরূহ। মনের ভাব সচরাচর কারো কাছে প্রকাশ করাটা কবি অপ্রয়োজনীয় মনে করতেন। তবে রচনাকালীন তাঁর আশপাশে থাকা সহচররা কখনোসখনো কবিমনের ভাব বুঝতে পারতেন। আবার কিছু ক্ষেত্রে কবি নিজেই গান (বা কবিতা) লিখবার কারণ প্রিয়জনদের বলতেন। কবির তৎকালীন সহচরদের স্মৃতিকথা এবং নানা রচনা থেকে কিছু কিছু গান সৃষ্টির গোড়ার কথা জানা যায়।
রবীন্দ্রগানের বাণীর ভাব বুঝতে পারাটা গায়ক এবং শ্রোতা উভয়ের জন্যই জরুরি। যদি কোনো গানের সৃষ্টিক্ষণের ঘটনাবলি গায়কের জানা থাকে, তবে গাইতে বসে তিনি গানের প্রকৃত রসটি সহজেই ফুটিয়ে তুলতে পারেন। শ্রোতাও তখন সেই গায়কির সাথে সহজেই একাত্ম হয়ে যান। রবীন্দ্রসংগীতের গায়কের থেকে শ্রোতার সংখ্যা সহস্রগুণ বেশি। বোদ্ধামহল গায়কদের গাইবার সুবিধার দিকে সদাই দৃষ্টি রাখেন। রবীন্দ্রনাথ নিজেও গায়কদের জন্য তাঁর গানগুলো গাইবার নির্দেশনা সুস্পষ্টভাবে বলে গিয়েছেন। তবে কোনো মহল থেকেই শ্রোতাদের জন্য রবির গান শুনবার বা বুঝবার কথাটি তেমন একটা ভাবা হয়নি। কোনো একটি গান সৃষ্টির পূর্বকথা যদি শ্রোতার জানা থাকে তবে তার পক্ষে গানটি অন্তরে ধারণ করা সহজ হয়। শ্রোতাদের কথা মনে করেই এই বইয়ে ১৫০টি রবীন্দ্রগানের সৃষ্টিকথা বলা হয়েছে।