...খাওয়া-পরার জন্য উৎপাদন করিতে হয় সকলকেই; কিন্তু উৎপাদনের জন্য দরকার উৎপাদনের হাতিয়ার বা যন্ত্র। পশুরও খাইতে হয়। বাঁচিয়া থাকার জন্য আহার সংগ্রহ করিতে হয়। কিন্তু হাত পা-ই তাহার হাতিয়ার: নিজের স্বাভাবিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দ্বারাই পশু খাদ্য আহরণ করে। কিন্তু মানুষের বেলায় তাহা হয় না। কৃত্রিম হাতিয়ার দ্বারা মানুষ তাহার স্বাভাবিক হাতকে সম্পূর্ণ করে। এইখানেই মানুষের সঙ্গে পশুর জগতের প্রভেদ; কৃত্রিম হাতিয়ারের ব্যবহার হইতেই মানুষের সমাজের শুরু। ...
উৎপাদনের জন্য যে হাতিয়ার বা উপকরণ দরকার, তাহাকে বলা হয় উৎপাদন শক্তি। আর উৎপাদনের কাজে মানুষ মানুষের সঙ্গে যে সব সম্পর্কে আবদ্ধ হয় তাহাকে বলা হয় উৎপাদন সম্পর্ক। উৎপাদনশক্তি এবং উৎপাদন-সম্পর্কের মধ্যে যে বিরোেধ বাধে, তাহা প্রকৃতপক্ষে শ্রেণী সংগ্রামেরই প্রকাশ। ইতিহাসের ধারায় এবং সমাজের বিকাশের পথে সমাজব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন করে শ্রেণীসংগ্রাম।