“অকূলপাথার” আরিফ খন্দকারের একটি জীবনঘনিষ্ঠ সমকালীন উপন্যাস, যেখানে একটি পরিবারের ধীরে ধীরে ভেঙে পড়ার গল্প উঠে এসেছে। বাইরে থেকে একটি পরিবারকে যতটা স্বাভাবিক মনে হয়, তার ভেতরে জমে থাকা গোপন সত্য, ভয়, না-বলা কথা ও সম্পর্কের টানাপোড়েন কখন যে সেই পরিবারকে গভীর সংকটের দিকে ঠেলে দেয়—এই উপন্যাস সেই অদৃশ্য ভাঙনের গল্প বলে।
নিখিলকে যখন পুলিশ হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যায়, তখন লাবনী দরজার সামনে দাঁড়িয়ে থেকেও বলতে পারে না তার মনের কথাটি। অরুণ সাহেব সারাজীবন সংসারকে আগলে রাখতে চেয়েছেন, আঞ্জুমান বুকের ভেতর লুকিয়ে রেখেছেন ভয়, সীমা নিজের অদৃশ্য খুঁত আড়াল করে বেঁচে থাকার চেষ্টা করেছে, আর মিথিল নিজের মতো করে হিসাব কষে এগিয়েছে। প্রত্যেকের জীবনেই রয়েছে এমন কিছু সত্য, যা ধীরে ধীরে জটিল করে তোলে পারিবারিক সম্পর্ক।
নিখিল ভেবেছিল ছোট ছোট গোপন হয়তো বড় কোনো ক্ষতি করবে না। কিন্তু গোপন সত্য কখনো ছোট থাকে না। সময়ের সঙ্গে তা বড় হতে হতে একসময় পুরো পরিবারকে গ্রাস করতে পারে। জেলখানার ভেতরে বসে নিখিলের আত্মজিজ্ঞাসা তাই শুধু তার নিজের নয়, বরং একটি পরিবারের দীর্ঘদিনের অদৃশ্য পতনের প্রতিচ্ছবি।
“অকূলপাথার” শুধু একটি ঘটনার গল্প নয়; এটি ধীরে ধীরে ভেঙে যাওয়া সম্পর্ক, নীরবতার ফাঁদ, ভালোবাসার আশ্রয় ও বিপদ এবং গোপন সত্যের পরিণতির গল্প। পাঠককে নিজের চারপাশের সম্পর্ক ও জীবনের অদৃশ্য সংকট নিয়ে ভাবতে বাধ্য করবে এই সমকালীন উপন্যাস।