একটি প্রাণঘাতী ভাইরাস, পৃথিবীজুড়ে মহাপ্রলয় এবং শুভ-অশুভের চূড়ান্ত দ্বন্দ্ব—এই তিনের মিশেলে রচিত স্টিফেন কিংয়ের বিখ্যাত উপন্যাস ‘দ্য স্ট্যান্ড’। মানবসভ্যতার পতন, বেঁচে থাকার সংগ্রাম এবং মানুষের নৈতিক সিদ্ধান্তের এক ভয়ংকর ও রোমাঞ্চকর আখ্যান এটি।
একটি জৈব-গবেষণাগার থেকে পালিয়ে যায় এক রোগী। তার অজান্তেই ছড়িয়ে পড়ে ভয়াবহ এক সুপার-ফ্লু ভাইরাস, যা মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যে পৃথিবীর প্রায় নিরানব্বই শতাংশ মানুষকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়। ধ্বংসস্তূপে পরিণত পৃথিবীতে যারা বেঁচে থাকে, তারা আতঙ্ক, অনিশ্চয়তা ও নিঃসঙ্গতার মধ্যে নতুন করে জীবন গড়ার চেষ্টা করে। টিকে থাকার জন্য তাদের প্রয়োজন হয় একজন নেতার, এমন একজনের, যিনি তাদের ভবিষ্যতের পথ দেখাতে পারবেন।
এমন পরিস্থিতিতে আবির্ভূত হন দুই বিপরীত মেরুর চরিত্র। ১০৮ বছর বয়সী দয়ালু নারী মাদার অ্যাবিগেইল সবাইকে কলোরাডোর বোল্ডারে একটি শান্তিপূর্ণ বসতি গড়ে তোলার আহ্বান জানান। অন্যদিকে, রহস্যময় ও কুখ্যাত র্যান্ডাল ফ্ল্যাগ বিশৃঙ্খলা, নৃশংসতা এবং অশুভ শক্তির প্রতীক হয়ে মানুষের সামনে উপস্থিত হয়। দুজনই নিজেদের অনুসারী সংগ্রহ করতে থাকেন। শেষ পর্যন্ত বেঁচে থাকা মানুষদের সামনে দাঁড়ায় এক কঠিন সিদ্ধান্ত—তারা কাকে বেছে নেবে?
স্টিফেন কিংয়ের ‘দ্য স্ট্যান্ড’ শুধু মহামারি-পরবর্তী পৃথিবীর গল্প নয়; এটি মানুষের অস্তিত্ব, বিশ্বাস, নৈতিকতা, ক্ষমতা এবং ভালো-মন্দের চিরন্তন সংঘাত নিয়ে এক বিশাল আখ্যান। ভয়, রহস্য, অতিপ্রাকৃত আবহ ও টানটান উত্তেজনায় ভরপুর এই উপন্যাস পাঠককে নিয়ে যায় সভ্যতার পতনের পর এক অনিশ্চিত পৃথিবীতে, যেখানে প্রতিটি সিদ্ধান্তের সঙ্গে জড়িয়ে আছে মানবজাতির ভবিষ্যৎ।
মো. ফুয়াদ আল ফিদাহর অনুবাদে ‘দ্য স্ট্যান্ড’ রহস্য, ভৌতিক, থ্রিলার ও অ্যাডভেঞ্চারপ্রিয় পাঠকদের জন্য এক আকর্ষণীয় পাঠ-অভিজ্ঞতা।