জল ময়ূরের কান্না — শাহ সোহেলের একটি আবেগঘন সমকালীন উপন্যাস, যেখানে বিচ্ছেদ, বিরহ, অপেক্ষা, নিঃসঙ্গতা এবং প্রিয় মানুষকে হারিয়ে ফেলার গভীর বেদনা এক সংবেদনশীল ভাষায় প্রকাশ পেয়েছে।
দীর্ঘ বিচ্ছেদের পরও কিছু মানুষ মনের ভেতর থেকে হারিয়ে যায় না। তাদের অনুপস্থিতি প্রতিদিনের জীবনে তৈরি করে এক অদৃশ্য শূন্যতা। প্রিয় মানুষটির অসহনীয় দিনযাপন, পরবাসী হয়ে থাকা এবং অচেনা মানুষের ভিড়ে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার গল্প হয়ে ওঠে বিচ্ছিন্ন হৃদয়ের এক অন্তর্লীন যন্ত্রণা। ক্ষণিকের কোনো সুর কিংবা মনের গহীনে ভেসে ওঠা কোনো ভাবনা হঠাৎ সেই পুরোনো ব্যথাকে জাগিয়ে তোলে।
বাইরের পৃথিবীতে স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা থাকলেও অন্তরে জমে থাকে বিরহের ভার। শুকনো মুখশ্রীর আড়ালে চাপা পড়ে যায় মন ভাঙার গল্প, ম্লান হয়ে আসে চঞ্চলতা, আর দীর্ঘ হয় অপেক্ষার প্রহর। নীরবে কাঁদে মন, চোখের পাতায় জমে থাকে এমন এক শূন্যতা—যার কোনো দৃশ্যমান ভাষা নেই।
জল ময়ূরের কান্না যেন সেই অদৃশ্য কান্নারই প্রতীক। জলারণ্যের ঢেউ, জল ময়ূরের অশ্রু, মেঘ ও লোকালয়ের জীবন—এসব চিত্রকল্পের মধ্য দিয়ে বিচ্ছেদের বেদনা আরও গভীর হয়ে ওঠে। ভালোবাসার মানুষকে ছাড়া জীবন পার করার দীর্ঘশ্বাস এবং একদিন ফিরে আসার আকাঙ্ক্ষা মিলেমিশে তৈরি করেছে এক বিষণ্ন, আবেগময় আখ্যান।