জলের ভেতর জলের বিসর্জন — ড. মুকিদ চৌধুরীর একটি গভীর জীবনঘনিষ্ঠ নাট্যোপন্যাস। ভাটি-বাংলার হবিগঞ্জের জলসুকা গ্রাম এবং ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলকে পটভূমি করে রচিত এই নাট্যকর্মে উঠে এসেছে ঘেটুপুত্রের একখণ্ড জীবন এবং একজন তরুণের মনোজগতের নানা সংকট।
একজন তরুণের মনোমুখিতা, নৈরাশ্য, অন্তর্যন্ত্রণা, বিচ্ছিন্নতা, আত্মরক্তক্ষরণ ও মনোবিকলনের পাশাপাশি গল্পে প্রকাশ পেয়েছে দ্বন্দ্ব-সংঘাত, লোভ, হিংসা, ঈর্ষা, ক্ষোভ, বিশ্বাস, ভয় ও প্রভুত্বের মতো মানবিক প্রবৃত্তি। কামনা-বাসনা, লালসা, প্রেম, মোহ, দুঃখ-বেদনা, হাসি-কান্নার বহুমাত্রিক অনুভূতি চরিত্রগুলোর জীবনকে করে তুলেছে জটিল ও নাটকীয়।
হাওড় জনপদের জীবন ও সংস্কৃতিকে বিষয়বস্তু হিসেবে গ্রহণ করলেও লেখক পুরো আখ্যানকে কল্পনার মাধ্যমে নির্মাণ করেছেন। কাল্পনিক চরিত্র ও সংলাপের মধ্য দিয়ে বাস্তবতার যে চিত্র তুলে ধরা হয়েছে, তা হাওড়ের সমাজ ও মানুষের জীবনকে পাঠকের সামনে জীবন্ত করে তোলে। চরিত্র ও ঘটনাপ্রবাহের মধ্য দিয়ে কোনো কিছুই আরোপিত মনে হয় না; বরং আখ্যানের নিজস্ব বাস্তবতার সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই মিশে গেছে।
জলের ভেতর জলের বিসর্জন পাঠককে শুধু একটি গল্পের ভেতর নিয়ে যায় না; মানুষ, সমাজ, জীবন এবং হাওড়ের সংস্কৃতি সম্পর্কে নতুন করে ভাবার সুযোগ তৈরি করে। ঘেটুপুত্রের জীবন ও মনোজগতের বেদনাময় অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে নাট্যোপন্যাসটি পাঠককে ডুবিয়ে দেয় এক গভীর চিন্তার জগতে।