জওহরলালের চিঠি বা পৃথিবীর ইতিহাস’ ভারতের প্রখ্যাত নেতা ও চিন্তাবিদ জওহরলাল নেহেরু-র লেখা ইতিহাসভিত্তিক একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ। চিঠির সহজ ও প্রাণবন্ত ভাষায় পৃথিবীর ইতিহাস, মানবসভ্যতার বিকাশ এবং সুদূর অতীতের নানা ঘটনা সম্পর্কে পাঠককে জানার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে এই বইয়ে।
বইটির ভাবনার সূচনা হয়েছে একটি সহজ প্রশ্ন থেকে—যে সময় পৃথিবীতে মানুষেরই জন্ম হয়নি, সেই সময়ের ইতিহাস আমরা কীভাবে জানব? তখন তো কোনো বই ছিল না, কোনো প্রত্যক্ষদর্শীও ছিল না। কেবল কল্পনা করে ইতিহাস তৈরি করা যায় না; ইতিহাসের সত্যতা জানতে প্রয়োজন নির্ভরযোগ্য প্রমাণ ও উপাদান। সেই প্রাচীন সময়ের লিখিত দলিল না থাকলেও প্রকৃতি, প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন, জীবাশ্ম, প্রাচীন স্থাপনা এবং নানা ঐতিহাসিক উপাদান অতীতের কথা আমাদের সামনে তুলে ধরে।
জওহরলাল নেহেরু ইতিহাসকে কেবল তারিখ ও ঘটনার তালিকা হিসেবে দেখেননি। বরং পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ, জাতি, সভ্যতা ও মানুষের জীবনযাত্রার পরিবর্তনের ধারাকে সহজভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁর চিঠির ভাষায় ইতিহাস হয়ে উঠেছে কৌতূহলোদ্দীপক, চিন্তাশীল এবং পাঠযোগ্য।
বিশ্বসভ্যতার প্রাচীন পর্যায় থেকে মানুষের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিকাশ পর্যন্ত ইতিহাসের নানা দিক জানতে আগ্রহী পাঠকদের জন্য ‘জওহরলালের চিঠি বা পৃথিবীর ইতিহাস’ একটি মূল্যবান গ্রন্থ। বিশেষ করে ইতিহাস, সভ্যতা ও মানবজাতির অতীত সম্পর্কে সহজ ভাষায় ধারণা নিতে চান—এমন পাঠকদের জন্য বইটি অত্যন্ত উপযোগী।