‘কবে যেনো দেশদ্রোহী হয়ে যাই’ শাহ সোহেলের প্রথম কাব্যগ্রন্থ। নব্বই দশকের মাঝামাঝি সময়ে সক্রিয়ভাবে লেখালেখিতে যুক্ত হওয়া এই কবির কবিতায় তারুণ্যের আবেগ, চিরন্তন প্রেমানুভূতি, জীবনবোধ, স্বদেশচেতনা ও সমকালীন বাস্তবতার নানা অনুষঙ্গ একসঙ্গে ধরা দিয়েছে।
শাহ সোহেল প্রেমের কবি হলেও তাঁর কবিতা শুধু প্রেমের অনুভূতিতে সীমাবদ্ধ নয়। ব্যক্তিজীবনের অভিজ্ঞতার পাশাপাশি সমকাল, স্বদেশ, সমাজ ও মানুষের সম্পর্ক তাঁর কবিতার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। উপমা, উৎপ্রেক্ষা, চিত্রকল্প, ছন্দ ও শব্দের সৃজনশীল ব্যবহারে কবি তাঁর নিজস্ব কাব্যভাষা নির্মাণের চেষ্টা করেছেন।
গ্রন্থের কবিতাগুলোতে কখনো প্রেম ও আবেগ, কখনো জীবন ও বাস্তবতার দ্বন্দ্ব, আবার কখনো স্বদেশের প্রতি গভীর অনুভব প্রকাশ পেয়েছে। ‘তোমার কসম লাগে নারী’, ‘নষ্ট ঘর-সংসারের গল্প’, ‘অবিনশ্বর বিপ্লব জীবন্ত ভূমিকম্প’, ‘সিগ্রেট মানুষ’, ‘কবে যেনো দেশদ্রোহী হয়ে যাই’, ‘কোথায় তার স্টেশন’ এবং ‘বৃষ্টি হলে মন ভিজে না’সহ বিভিন্ন কবিতায় কবির ভাবনা, কল্পচিত্র, ছন্দজ্ঞান ও শিল্পচেতনার পরিচয় পাওয়া যায়।
আশরাফ হাসানের মূল্যায়নে, শাহ সোহেলের কবিতায় উপমা, চিত্রকল্প, বাকভঙ্গি ও শব্দবুননের সম্ভাবনা লক্ষণীয়। প্রেম, জীবন, স্বদেশ ও সমকালকে নিজস্ব অনুভবের আলোয় দেখার প্রয়াসে ‘কবে যেনো দেশদ্রোহী হয়ে যাই’ বাংলা কবিতার পাঠকদের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ।