‘মায়াবী জীবন’ মোশতাক আহমেদের একটি রহস্যঘন অতিপ্রাকৃত ও ভৌতিক উপন্যাস। নীলিমার বহুদিনের শখ ছিল একটি বড় আয়নার। স্বামী তার সেই শখ পূরণ করে দেওয়ার পর থেকেই শুরু হয় অদ্ভুত সব ঘটনা। আয়নার দিকে তাকালেই ভেসে আসে গোঙানির শব্দ, আর একসময় কাচের ওপর রক্ত দিয়ে ফুটে ওঠে রহস্যময় বাক্য—‘মায়াবী আয়নার মায়াবী জীবন’। নীলিমার মনে হতে থাকে, এই আয়নার বুঝি সত্যিই কোনো জীবন আছে!
পরিস্থিতি আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠে যখন আয়নার ভেতর থেকে মধ্যবয়সি এক পুরুষ তাকে ডাকতে শুরু করে। সাদা চাদরে ঢাকা তার শরীর, অথচ মুখটি অস্পষ্ট এবং প্রতি মুহূর্তে পরিবর্তিত হয়। আতঙ্কিত নীলিমা সিদ্ধান্ত নেয় সেই ডাকে সাড়া দেবে না। কিন্তু অব্যাহত গোঙানির শব্দ তাকে ভাবিয়ে তোলে—আয়নার ওপারে কেউ কি সত্যিই সাহায্যের জন্য অপেক্ষা করছে?
শেষ পর্যন্ত নিজের কৌতূহল ও অস্থিরতাকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে নীলিমা পা বাড়ায় আয়নার ভেতর। গোঙানির শব্দ অনুসরণ করতে গিয়ে সে এমন এক পুরুষকে দেখতে পায়, যে দেখতে অবিকল তার স্বামীর মতো। অজানা সেই মানুষটিকে বাঁচাতে গিয়ে নীলিমা ধীরে ধীরে জড়িয়ে পড়ে এক ভয়ংকর মায়াবী জীবনের মধ্যে।
আয়নার ওপারে কী আছে? কে সেই রহস্যময় পুরুষ? আর নীলিমা কি আদৌ ফিরে আসতে পারবে নিজের পরিচিত জীবনে? ‘মায়াবী জীবন’ পাঠককে নিয়ে যায় রহস্য, ভয়, অজানা জগত ও অতিপ্রাকৃত বিভীষিকার এক শিহরণজাগানো যাত্রায়।