‘মায়ের কাছে ফিরে যাবো আমি’ নবীরুল ইসলাম বুলবুলের একটি অনুভূতিনির্ভর কাব্যগ্রন্থ, যেখানে মানুষের অস্তিত্ব, মানবিকতা, হিংসা, বিভেদ, ভালোবাসা ও নিরাপত্তাহীনতার নানা প্রশ্ন গভীর আবেগে উঠে এসেছে।
মানুষের পৃথিবীতে আজ কি সত্যিই কোনো নিরাপদ আবাস আছে? আত্মবিধ্বংসী মানুষ যখন নিজের স্বজাতির বিরুদ্ধেই হিংস্র হয়ে ওঠে, তখন মানবীয় সত্তার অস্তিত্ব কোথায়? কবির উপলব্ধিতে মানুষ তার বুদ্ধি, সভ্যতা ও শ্রেষ্ঠত্বের দাবি করলেও কখনও কখনও তার আচরণ হয়ে ওঠে নির্মম ও আত্মবিধ্বংসী। রক্তপাত, ঘৃণা, বর্ণবৈষম্য ও বিভেদের উৎসব মানুষের মানবিক পরিচয়কেই প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায়।
কবিতার পঙ্ক্তিতে তাই উঠে আসে এক গভীর আকাঙ্ক্ষা—মানুষ আবার যেন ভালোবাসা, মমতা ও মানবিকতার কাছে ফিরে আসে। ঘৃণার আগুনের বদলে মানুষের চোখে জ্বলে উঠুক প্রেমের আলো; বিভেদের পরিবর্তে প্রতিষ্ঠিত হোক পারস্পরিক সম্মান ও সহমর্মিতা।
‘মায়ের কাছে ফিরে যাবো আমি’ শুধু আবেগের কবিতার বই নয়; এটি মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসা, শান্তি, মমতা ও মানবিক পৃথিবীর প্রত্যাশায় উচ্চারিত এক সংবেদনশীল কাব্যিক আহ্বান।