‘মেঘের ওপারে পরি’ শাহ সোহেলের একটি কাব্যিক আবহের সমকালীন উপন্যাস। কল্পনা, আকাঙ্ক্ষা, প্রেম, বিস্ময়, অপেক্ষা ও অধরা এক অস্তিত্বকে ঘিরে এগিয়ে যায় এর অনুভূতিনির্ভর বয়ান। এখানে বাস্তবতা ও কল্পনার সীমারেখা বারবার অস্পষ্ট হয়ে আসে—কখনো মনে হয় যা দেখা, তা সত্য; আবার কখনো সবকিছুই ভ্রম।
মেঘের দেশের নাবিক হওয়ার স্বপ্নে বিভোর এক মন খুঁজে ফেরে কল্পলোকের সেই অপরাজিতাকে, যার কৃষ্ণকালো কেশ, অদম্য উচ্ছ্বাস ও রহস্যময় উপস্থিতি তাকে টেনে নিয়ে যায় অচেনা অলিগলি থেকে মোড়ের মাথায় ধোঁয়া ওঠা এক কাপ চায়ের কাছে। অথচ বহু খোঁজের পরও দেখা মেলে না সেই প্রাণের এলোকেশির। সে কি বাস্তবের কেউ, নাকি কল্পজগতের এক বিস্ময়?
গোধূলির মৃদু আলো, কুপির নিভু নিভু শিখা, সদ্য ফোটা জোৎস্না এবং মেঘের ওপারে হাত বাড়িয়ে দেওয়া এক অদৃশ্য উপস্থিতি—এসব চিত্রকল্প উপন্যাসটিকে দিয়েছে স্বপ্নময় আবহ। কখনো মনে হয় কেউ নিজের মাঝেই নিজেকে হারিয়ে ফেলেছে, আবার কখনো মনে হয় মেঘের ওপারে থাকা কোনো পরী মানুষের চোখে কেবল আবছা আলোয় ধরা দিয়েছে।
হারিয়ে যাওয়া সেই বিস্ময়ী সত্তাকে সাত সমুদ্রের মাঝে খুঁজে ফেরার আকাঙ্ক্ষা থেকেই জন্ম নেয় এক অনিশ্চিত অপেক্ষা—সে কি আবার দেখা দেবে, নাকি চিরকাল মেঘের ওপারেই থেকে যাবে? ‘মেঘের ওপারে পরি’ তাই প্রেম, কল্পনা, রহস্য ও অধরা অনুভূতির এক স্বপ্নময় সমকালীন উপন্যাস।