‘মৃত্যুবন্দি’ মোশতাক আহমেদের একটি রহস্যঘন প্যারাসাইকোলজিকাল উপন্যাস। নিশিতা অফিসে বসে থাকা অবস্থায় হঠাৎ একটি চিঠি পেয়ে জানতে পারে, ‘রেডম্যান’ নামের অজ্ঞাতপরিচয় কেউ তাকে কিনে নিতে চায়। বিষয়টি প্রথমে অবিশ্বাস্য মনে হলেও ঘটনা দ্রুত এমন এক বাস্তবতায় রূপ নেয়, যা নিশিতার জীবনের নিরাপত্তাকেই প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দেয়।
নিশিতার জীবনের মূল্য হিসেবে তাদের বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয় এক কোটি পঞ্চাশ লক্ষ টাকা। বিস্মিত নিশিতা মনে করে, হয়তো কেউ তার সঙ্গে দুষ্টুমি করছে। তার সৌন্দর্যের কারণে অনেকেই তাকে পছন্দ করে এবং বিয়ে করতে চায়; তাদের মধ্যকার কোনো ধনী ব্যক্তি হয়তো এমন কাণ্ড ঘটিয়েছে—এমনটাই অনুমান করে সে। কিন্তু হিসাব মেলাতে পারে না নিশিতা। কারণ রেডম্যান নিজের পরিচয় গোপন রেখে বারবার তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে থাকে।
এরপর পরিস্থিতি ভয়ংকর মোড় নেয়। রেডম্যান জানায়, নিশিতা মৃত্যুবন্দি—তাকে দ্রুত একটি গোপন বন্দিশালায় হত্যা করা হবে। ঠিক তখনই ডাক্তার তরফদারের সঙ্গে নিশিতার পরিচয় হয়। রেডম্যান নামটি শুনেই ডাক্তার তরফদারের আগ্রহ ও উদ্বেগ বাড়তে থাকে। রহস্যের গভীরে যেতে গিয়ে তিনি বুঝতে পারেন, নিশিতা এমন এক বিপদের মধ্যে আটকে গেছে, যেখান থেকে তাকে উদ্ধার করা সহজ নয়।
কে এই রেডম্যান? কেন নিশিতাকে কিনে নেওয়ার জন্য এত বিপুল অর্থ দেওয়া হলো? সত্যিই কি নিশিতা মৃত্যুর বন্দি? আর ডাক্তার তরফদার কি তাকে শেষ পর্যন্ত বাঁচাতে পারবেন?
‘মৃত্যুবন্দি’ পাঠককে এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে নিয়ে যায় রহস্য, অজানা আতঙ্ক ও প্যারাসাইকোলজিকাল ঘটনার এক টানটান জগতে।