‘মৎস্যগন্ধা’ এক কৈবর্তকন্যার সংগ্রাম, টিকে থাকা, ক্ষমতা অর্জন এবং নিয়তির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের আখ্যান। মাছের পেটে জন্ম, কৈবর্তপরিবারে বেড়ে ওঠা মৎস্যগন্ধার জীবনে নেমে আসে নির্মম বাস্তবতা। ঋষি পরাশরের দ্বারা ধর্ষণের শিকার হওয়ার পর শুরু হয় তার বেঁচে থাকার কঠিন সংগ্রাম। সেই সংগ্রামের পথ পেরিয়ে একসময় সে হয়ে ওঠে রাজা শান্তনুর স্ত্রী—সত্যবতী।
কিন্তু রাজপ্রাসাদের জীবনেও মৎস্যগন্ধার ভাগ্যে জোটেনি সুখ কিংবা স্বস্তি। প্রেমহীন অথচ সুরভিত, রক্তাক্ত কিন্তু উজ্জ্বল তার জীবন। দুই বিধবা পুত্রবধূকে নিয়ে হস্তিনাপুরের রাজপ্রাসাদে তাকে লড়তে হয়েছে নিয়তি, কূটকৌশল, স্বার্থপরতা, ধর্মাচার ও যৌনতার জটিল বাস্তবতার বিরুদ্ধে।
**‘মৎস্যগন্ধা’** শুধু এক নারীর উত্থানের গল্প নয়; এটি তার যুদ্ধজয়ের পাশাপাশি পরাজয়েরও এক গভীর জীবনাখ্যান। মহাভারতের পটভূমিতে প্রাচীন সময় ও আধুনিক মানুষের জীবনকে একসূত্রে গেঁথেছেন **হরিশংকর জলদাস**। সরল, মনোহর, ইঙ্গিতবহ ও ভানমুক্ত ভাষায় রচিত এই উপন্যাসে ফুটে উঠেছে লেখকের নিজস্ব জীবনদর্শন।
ইতিহাস, পুরাণ, নারীজীবন, ক্ষমতার রাজনীতি ও মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্বনির্ভর উপন্যাসের পাঠকদের জন্য ‘মৎস্যগন্ধা’ একটি তাৎপর্যপূর্ণ পাঠ।