‘নারীবিসর্গ’ শরীফ আহমেদের একটি সমকালীন উপন্যাস। ২০১৭ সালের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রচিত এই কাহিনি একজন নারীর জটিল মনোজগত, সম্পর্কের টানাপড়েন, সহচার্যের সম্ভাবনা এবং হঠাৎ ঘটে যাওয়া বিচ্ছেদের গল্প।
‘বিসর্গ’ অর্থ সহসা থেমে যাওয়া। বাংলা বর্ণমালার এই চিহ্নটি যেমন দুটি ভিন্ন পরিস্থিতির মধ্যে একটি রূপান্তরের ইঙ্গিত দেয়, তেমনি ‘নারীবিসর্গ’-এর কাহিনিতেও একসময় নারীর মনের জটিলতার গভীরে গিয়ে গল্প হঠাৎ থেমে যায়। এরপর কাহিনি নেয় সম্পূর্ণ ভিন্ন এক রূপ। সম্ভাব্য সহচার্য এক মুহূর্তে থেমে গিয়ে সেখানে শোনা যায় চিরবিচ্ছেদের শব্দ।
লেখকের সঙ্গে সেই নারীর পরিচয় ও সম্পর্কের সময়কাল ছিল মাত্র নয় মাস। কখনো প্রতিদিন, কখনো দু-একদিন পরপর কথোপকথনের মধ্য দিয়ে লেখক জানতে পারেন তার মন-মানসিকতা ও স্বভাবের নানা দিক। নারীটির আচরণ ছিল অদ্ভুত এবং তার মানসিকতা ছিল জটিল। কোনো কিছু সহজভাবে ভাবতে না পারা এবং দায়িত্বজ্ঞানহীনতার নানা অভিজ্ঞতাও লেখকের উপলব্ধিতে উঠে আসে।
তাদের দেখা হয়েছিল মাত্র একবার। দ্বিতীয়বার দেখা করার সুযোগ আর হয়ে ওঠেনি। একসময় লেখকের ল্যাপটপ তার কাছে থেকে যায়। একটি ছোট ঠিকানার সূত্র ধরে মগবাজারের অলিগলিতে প্রায় এক ঘণ্টা হেঁটে লেখক তার বাসা খুঁজে বের করেন। ল্যাপটপের ব্যাগটি নিয়ে ফিরে আসেন, কিন্তু আর ফিরে তাকাননি তার দিকে। এরপর আর কোনো কথা বা দেখা হয়নি।
‘নারীবিসর্গ’ তাই শুধু একজন নারীকে ঘিরে সম্পর্কের গল্প নয়; এটি মানুষের মন, সম্পর্কের অনিশ্চয়তা, অসম্পূর্ণতার বেদনা এবং আকস্মিক বিচ্ছেদের এক অন্তরঙ্গ আখ্যান।