“নীরা” — লেখক আরিফ খন্দকার-এর একটি আবেগঘন সমকালীন উপন্যাস। ভালোবাসা যে কখন, কীভাবে একজন মানুষের কঠিন আবরণের ভেতর নরম অনুভূতির জন্ম দেয়—নীরার গল্প যেন সেই অজানা অনুভূতিরই এক গভীর প্রকাশ।
নীরা তার প্রিয় মানুষটির চোখের দিকে তাকিয়ে সমুদ্র অনুভব করতে ভালোবাসে। ভালোবাসার মানুষটির উপস্থিতিতে তার বুকের ভেতর পাখির মতো ডানা ঝাপটানো অনুভূতি জেগে ওঠে। নিজেকে সে কেবল সেই মানুষটির ভাবতেই ভালোবাসে। অথচ নীরা নিজেই বুঝতে পারে না, কীভাবে এতটা ভালোবেসে ফেলেছে তাকে। যে নীরা প্রচণ্ড কর্কশ, যার দিকে চোখ তুলে তাকানোর সাহসও অনেকের ছিল না, সেই নীরাই কীভাবে অজান্তে একজন মানুষকে গভীরভাবে ভালোবেসে ফেলল—তার উত্তর তার নিজের কাছেও অজানা।
কিন্তু হঠাৎ বদলে যায় সবকিছু। নীরার সমুদ্র দেখা থেমে যায়, বুকের ভেতর পাখির মতো ডানা ঝাপটানো অনুভূতিও হারিয়ে যায়। সে জানতে পারে, তার সেই প্রিয় মানুষটি আর নেই। তবুও নীরা সহজে তা বিশ্বাস করতে পারে না। বাস্তবতার নির্মম সত্যকে মেনে নিতে না পেরে প্রতিদিন নিজের কল্পনার ভেতর মানুষটিকে বাঁচিয়ে রাখে—হয়তো সে আছে, হয়তো একদিন ফিরে আসবে।
ভালোবাসা, অস্বীকার, অপেক্ষা, স্মৃতি ও হারিয়ে যাওয়ার বেদনায় “নীরা” হয়ে ওঠে এক নারীর অন্তর্জগতের আবেগঘন গল্প।