‘নৈরাজ্য’ শব্দটি অনেকের কাছে নেতিবাচক অর্থ বহন করলেও এর প্রকৃত ধারণা ভিন্ন। নৈরাজ্যবাদ বলতে বোঝায় শাসকবিহীন, কর্তৃত্ববাদী কাঠামোমুক্ত ও স্বশাসিত একটি সামাজিক ব্যবস্থা। প্রচলিত ধারণার বাইরে গিয়ে নৈরাজ্যবাদী দর্শন, সমাজব্যবস্থা এবং মানুষের সম্মিলিত সম্ভাবনাকে নতুনভাবে ভাবতে আহ্বান জানায় **‘নৈরাজ্যবাদী নৃবিজ্ঞান: বিকল্প সম্ভাবনা’**।
এই বইয়ে **আনন্দ অন্তঃলীন** বিদ্যমান রাষ্ট্রকাঠামো, শোষণমূলক পুঁজিবাদ, গণতন্ত্রের সীমাবদ্ধতা এবং শ্রম-শোষণের বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ করেছেন। ‘উন্নয়ন’-এর নামে রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় এবং পরিবেশ-প্রতিবেশের ভয়াবহ দূষণের বিষয়ও তুলে ধরেছেন তিনি। একই সঙ্গে প্রচলিত ব্যবস্থার সমস্যাগুলো চিহ্নিত করার পাশাপাশি বিকল্প ও সম্ভাবনাময় সমাজব্যবস্থা গড়ে তোলার বিভিন্ন উদাহরণ উপস্থাপন করেছেন।
লেখকের দৃষ্টিভঙ্গিতে সমাজতান্ত্রিক দর্শনের প্রভাব থাকলেও সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার সীমাবদ্ধতাও আলোচনায় এসেছে। ফলে বইটি কেবল নৈরাজ্যবাদী চিন্তার পরিচিতি নয়; বরং রাষ্ট্র, ক্ষমতা, অর্থনীতি, শ্রম, পরিবেশ ও সামাজিক মুক্তির প্রশ্নে একটি বিকল্প চিন্তার পরিসর তৈরি করে।
সমসাময়িক বিশ্বে যুদ্ধ, মানবিক বিপর্যয়, দুর্ভিক্ষ ও সামাজিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে মানুষের সম্মিলিত শক্তি ও সম্ভাবনাকে নতুনভাবে উপলব্ধি করতে সহায়ক হতে পারে এই গ্রন্থ। সমাজ, রাষ্ট্র, রাজনীতি, নৃবিজ্ঞান ও বিকল্প সমাজদর্শন বিষয়ে আগ্রহী পাঠকদের জন্য **‘নৈরাজ্যবাদী নৃবিজ্ঞান: বিকল্প সম্ভাবনা’** একটি চিন্তাশীল পাঠ।