প্রতীক্ষা—প্রেম, বিচ্ছেদ, নিয়তি ও না-পাওয়া ভালোবাসার এক আবেগঘন সমকালীন উপন্যাস। মানুষ প্রিয়জনের অপেক্ষায় কখনো কখনো পুরো জীবন কাটিয়ে দেয়। সময়ের সঙ্গে সেই অপেক্ষাই একসময় রূপ নেয় গভীর প্রতীক্ষায়।
কাজলী নামের এক স্কুলপড়ুয়া কিশোরী জড়িয়ে পড়ে এক কিশোরের প্রেমে। চিঠির মাধ্যমে তারা মনের কথা আদান-প্রদান করে। সেই চিঠিই তাদের জীবনে খুলে দেয় ভালোবাসার নতুন অধ্যায়, আবার একসময় সেই চিঠিই হয়ে ওঠে জীবনের কাল। থেমে যায় কাজলীর পড়ালেখা। অল্প বয়সেই তার হাতে ওঠে রাঙা মেহেদি, অথচ হৃদয়ের ভেতর জমে থাকে না-পাওয়ার রক্তক্ষরণ।
বাস্তবতার নির্মমতায় কাজলী নিজেকে সংসারে ব্যস্ত করে তোলে। একসময় সন্তান এসে তার জীবনে আলো জ্বালায়। অন্যদিকে সাবেক প্রেমিক সবুরের সংসারেও আসে নতুন আলো। কিন্তু হঠাৎ এক ঝড়ে সবুরের সংসার তছনছ হয়ে যায়। প্রকৃতির নির্মম লীলায় ভেঙে পড়ে কাজলীর সংসারও।
দুজনের জীবনে তখন বহুদিন ধরে দাঁড়িয়ে থাকা প্রতীক্ষা যেন সামনে এসে দাঁড়ায়। মনে হয়, হয়তো আবার মিলন ঘটবে দুজনের। কিন্তু ভাগ্য তাদের সেই সুযোগও দেয় না। একসময় সবুরের জীবনে নতুন একজন মানুষের আগমন ঘটে, আর কাজলীর জীবনে নেমে আসে গভীর অন্ধকার। বুকের ভেতর পাথরচাপা বেদনা নিয়ে সে আনমনে তাকিয়ে থাকে—সামনে শুধু অথই জল।
রেদোয়ান মাসুদের ‘প্রতীক্ষা’ তাই শুধু প্রেমের গল্প নয়; এটি অপেক্ষা, হারানো ভালোবাসা, সংসার, নিয়তি ও জীবনের নির্মম বাস্তবতার এক হৃদয়স্পর্শী কাহিনি।