“পথ পেরোলেই সুখনগর” — লেখক মফিজুল হক-এর একটি গভীর জীবনবোধসম্পন্ন সমকালীন উপন্যাস। সমাজ, পরিবার ও নিজের কাছেই অবিশ্বাসী এক নারীর জীবনযাত্রা, বিষাদ, অনুতাপ, দ্বিধা-দ্বন্দ্ব এবং অসহনীয় ব্যথার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাওয়ার গল্প উঠে এসেছে এই উপন্যাসে।
বেনুর জীবন যেন এক অন্তহীন পদযাত্রা। তার চারপাশে থাকা কিছু অনুভূতি ও অস্তিত্বকে দেখা যায় না, ছোঁয়া যায় না—শুধু অনুভব করা যায়। তাদের সঙ্গে হাঁটা যায়, কিন্তু স্পর্শ করা যায় না; কথা বলা যায় না, অথচ তারা নীরবে হৃদয়ের গভীরে আলোড়ন তোলে। এই অদৃশ্য জগতের মধ্য দিয়েই বেনু খুঁজে ফেরে জীবনের অর্থ এবং সামনে এগিয়ে যাওয়ার সাহস।
সময় থেমে গেলেও মানুষের ভেতরের ব্যথা থেমে থাকে না। বেনুর জীবনে সেই ব্যথা বারবার ফিরে আসে। তবুও সে বুকে অসহনীয় কষ্ট ধারণ করে বেঁচে থাকতে চায়। তার কাছে জীবন যেন হাসিমুখে ব্যথা সহ্য করার এক কঠিন অনুশীলন।
এই উপন্যাসে সুখের প্রচলিত সংজ্ঞাকেও প্রশ্নের মুখোমুখি করা হয়েছে। সবার কাছে সুখের অনুভূতি এক নয়; কারও কাছে সুখ অশ্রুর মতো, কারও কাছে আত্মবিধ্বংসী যন্ত্রণার মতো। মানুষের অদৃশ্য কষ্ট, নিয়তির রহস্য এবং জীবনের এমন কিছু অন্ধকার অধ্যায় এখানে উঠে এসেছে, যা বাইরে থেকে দেখা যায় না—শুধু অনুভব করতে হয়।
“পথ পেরোলেই সুখনগর” তাই কেবল একটি নারীর গল্প নয়; এটি ব্যথা, নিয়তি, আত্মসংঘাত ও সুখের সন্ধানে মানুষের এক দুরূহ পদযাত্রার গল্প।