রাজাবলি ত্রিপুরার ইতিহাসাশ্রয়ী ও কল্পনাশ্রয়ী একটি বিয়োগান্ত নাট্যোপন্যাস। হিংস্র-শক্তি ও অহিংস্র-শক্তির দ্বন্দ্ব, ধর্মীয় প্রথা, ক্ষমতার রাজনীতি, ঈর্ষা, ষড়যন্ত্র এবং শুভশক্তির জাগরণ—এই নাটকের মূল বিষয়।
ত্রিপুরার মহারাজা গোবিন্দমাণিক্য পুজোর নৈবেদ্যের নামে প্রচলিত পশুবলির মতো একটি নিষ্ঠুর প্রথার বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। তাঁর এই অবস্থান রাজমন্দিরের পুরোহিত রঘুপতির ঈর্ষার কারণ হয়ে ওঠে। দেবীর তুষ্টির কথা বলে রঘুপতি প্রজাদের মহারাজার বিরুদ্ধে উত্তেজিত করে তোলেন এবং একইসঙ্গে শুরু হয় হত্যার ষড়যন্ত্র।
ঈর্ষা, ধর্মীয় উন্মাদনা ও ক্ষমতার আকাঙ্ক্ষায় যখন রাজ্য অস্থির হয়ে ওঠে, তখন মহারাজ গোবিন্দমাণিক্যকে ঘিরে সংঘাত আরও তীব্র হয়। একদিকে হিংস্রতার শক্তি, অন্যদিকে মানবিকতা ও অহিংসার আদর্শ—এই দ্বন্দ্বই কাহিনিকে এগিয়ে নিয়ে যায়।
শেষ পর্যন্ত নানা ষড়যন্ত্র ও অপশক্তিকে পাশ কাটিয়ে মহারাজ গোবিন্দমাণিক্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল পুষ্কর শুভশক্তির পক্ষে দাঁড়ায়। তার ভূমিকার মধ্য দিয়ে অপশক্তির পরাজয় এবং শুভশক্তির উদ্বোধনের বার্তা প্রকাশ পায়।
ড. মুকিদ চৌধুরীর ‘রাজাবলি’ তাই ইতিহাস ও কল্পনার মেলবন্ধনে নির্মিত এমন এক নাট্যকাহিনি, যেখানে ক্ষমতা, বিশ্বাস, হিংসা, অহিংসা ও মানবিকতার সংঘাত পাঠককে ভাবতে বাধ্য করে।