‘রক্তপিপাসু আত্মা’ মোশতাক আহমেদের একটি ভয়ংকর ও রহস্যময় ভৌতিক কাহিনি। হিজলতলী গ্রামের শান্ত পরিবেশে হঠাৎ নেমে আসে আতঙ্কের ছায়া। প্রচণ্ড ঝড়ে গ্রামের পাশে থাকা শতবর্ষী একটি তালগাছ মাঝখান থেকে ভেঙে যাওয়ার পর থেকেই একের পর এক পুরুষ নিখোঁজ হতে থাকে। একসময় দিনের বেলাতেও একা চলাচল করতে ভয় পায় গ্রামবাসীরা। কিন্তু আতঙ্কের মধ্যেও থামে না মানুষের অন্তর্ধান। পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে যখন সাত্তার মিয়ার রক্তশূন্য লাশ পাওয়া যায়। তাঁর শরীরজুড়ে অসংখ্য ক্ষুদ্র ছিদ্র দেখে গ্রামবাসীরা বুঝতে পারে, এটি কোনো সাধারণ মৃত্যু নয়। অজানা এক শক্তি যেন তাঁর শরীরের সমস্ত রক্ত শুষে নিয়েছে। গ্রামের এই অস্বাভাবিক ঘটনার রহস্য অনুসন্ধানে সতর্ক হয়ে ওঠেন স্থানীয় এনজিও কর্মকর্তা মামুন। তাঁর ধারণা, ভাঙা তালগাছের সঙ্গে ভয়ংকর ঘটনাগুলোর কোনো গভীর সম্পর্ক রয়েছে। রহস্যের সন্ধানে একদিন মামুন নিজেই হাজির হন সেই তালগাছের গোড়ায়। গাছের ফাঁকা অংশ দিয়ে উঁকি দিতেই তাঁর সামনে উন্মোচিত হয় এক ভয়ংকর সত্য—অপূর্ব সুন্দর এক নারী আত্মা, যার কাছে মানুষের রক্তই তৃপ্তির উৎস। নিজের ভুল বুঝতে পেরে মামুন দ্রুত বাংলোয় ফিরে যেতে চান। কিন্তু ততক্ষণে কি অনেক দেরি হয়ে গেছে? কে এই রক্তপিপাসু নারী আত্মা? কেন সে হিজলতলী গ্রামের পুরুষদের শিকার করছে? মামুন কি প্রাণে বাঁচতে পারবেন, আর গ্রামবাসীরাই বা কীভাবে মুক্তি পাবে এই ভয়ংকর অভিশাপ থেকে? ‘রক্তপিপাসু আত্মা’ রহস্য, আতঙ্ক ও অতিপ্রাকৃত ঘটনার সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এমন একটি কাহিনি, যা ভৌতিক গল্প ও শিহরণজাগানো রহস্যের পাঠকদের শেষ পর্যন্ত কৌতূহলী করে রাখবে।