আমি নিজের মনকে প্ররোচিত করিলাম, অধ্যয়নের পেছনে সমস্ত মনোযোগী হইতে। কলেজ জীবন সমাপ্ত হইল, ভার্সিটিতে অধ্যয়ন করিতেছি। পিতার স্বপ্ন পূরণের তাগিদে অক্লান্ত পরিশ্রমে নিজেকে নিয়োজিত করিলাম। কিন্তু আমার স্বপ্ন চন্দ্রাবতীকে নিজের করে নেওয়ার স্বপ্ন কতটুকু পূর্ণ হইতে পারিবে? তাহার সহিত কথা বলিবার সুযোগ পাই না, কাছে যাইবারও সামর্থ্য হইয়া উঠিল না।ভালোবেসেও শুধু দূরত্বই বাড়াইলাম। চন্দ্রাবতীর এখন বিবাহের বয়স।প্রায় প্রতিটি চিঠিতে তাহার লিখা থাকে-ছেলেপক্ষ দেখা করতে এসেছিল, অথবা ছেলেপক্ষ শীঘ্রই আসিবে। সেই লাইনগুলি যেন কাঁটা হয়ে বসতো আমার অন্তরে। কিন্তু আমি সেই প্রতি উত্তর দিতে পারি না।কী করব?কীভাবে তাহার পিতার নিকটে গিয়ে বিয়ের প্রার্থনা করিব?আমার কি যোগ্যতা আছে? এই ভাবনা আমাকে নিমজ্জিত করিয়া রাখে। শুধু এটুকুই বলিবার ছিল চন্দ্রাবতী আমার জন্যে অপেক্ষা কর।এভাবেই দিন অতিবাহিত হইল আমাদের চিঠিপত্রের মধ্যে নিঃশব্দে।