সমুদ্রের ঢেউয়ের মতোই প্রবল মানুষের মুক্তির আকাঙ্ক্ষা—‘শঙ্খের শপথ’।
রেজুয়ান আহম্মেদের এই জীবনঘনিষ্ঠ উপন্যাসে উঠে এসেছে কক্সবাজারের সমুদ্রতীরবর্তী জেলেপাড়ার মানুষের দুঃখ-কষ্ট, বঞ্চনা ও অধিকার আদায়ের সংগ্রাম। সমুদ্র যাদের জীবিকার উৎস, সেই জেলেরাই মহাজন শুক্কুর মিয়ার ‘দাদন’-এর অদৃশ্য শৃঙ্খলে বন্দি। দিনরাত পরিশ্রম করেও বাবুল জলদাস ও তার স্ত্রী কমলার মতো মানুষদের জীবনে নেমে আসে অভাব, অনিশ্চয়তা ও শোষণের নির্মম বাস্তবতা।
এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের সূচনা করেন তরুণ ইমরান ও বাবুল। মজনুর আত্মত্যাগ তাদের আন্দোলনকে আরও দৃঢ় করে তোলে। গড়ে ওঠে ‘কক্সবাজার জেলে শ্রমজীবী সমিতি’। আসমানীর নেতৃত্বে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে শিক্ষা, ন্যায্য অধিকার ও বিকল্প জীবিকার দাবিতে। রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়ন এবং মহাজনের ষড়যন্ত্রের মুখেও জেলেরা ঐক্যবদ্ধ থেকে শোষণ ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়।
‘শঙ্খের শপথ’ শুধু জেলেদের জীবনসংগ্রামের কাহিনি নয়; এটি শ্রমজীবী মানুষের মর্যাদা, সংহতি, আত্মত্যাগ ও মুক্তির আকাঙ্ক্ষার প্রতিচ্ছবি। সমুদ্রের উত্তাল ঢেউয়ের মতো অন্যায়ের বিরুদ্ধে মানুষের সম্মিলিত প্রতিবাদ কীভাবে পরিবর্তনের শক্তি হয়ে ওঠে, সেই বার্তাই তুলে ধরে এই উপন্যাস।